এশিয়ান কনজিউমার কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড (একটি ডাবর ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি) বাংলাদেশে ডাবরের পণ্য বাজারজাত করছে, যা সারাবিশ্বে পরিচিত। এর গুণগতমান এ দেশের ভোক্তাসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে যিনি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং মননশীল কর্মদক্ষতার কারণে পণ্যগুলো দিন দিন প্রসার লাভ করতে শুরু করেছে তিনি ডাবরের ব্র্যান্ড ম্যানেজার মনির হোসেন। তিনি ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব কেটেছে কুমিল্লাতেই। সেই সুবাদে পড়াশোনা কুমিল্লায় শুরু করলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক চট্টগ্রামে সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে বিবিএ (১৯৯৭) ও এমবিএ পাস করেছেন ১৯৯৯ সালে। এরপর বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডে (রূপচাঁদা) চাকরির মাধ্যমে প্রথম কর্মজীবনে পা রাখেন। সেখানে ৯ বছর কর্মদক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন। রুট লেভেল থেকে কাজ শুরু করা এ ব্যক্তিটি ২০০৭ সালে ডাবরের ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। আমাদের আজকের সাফল্যের গল্পে তার কর্মজীবনের সফলতার কথা তুলে ধরেছেন- বাবুল হৃদয়
যাযাদিঃ একজন ব্র্যান্ড ম্যানেজারের কাজ কী?
মনির হোসেনঃ একজন ব্র্যান্ড ম্যানেজার একটি কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যার সৃজনশীল চিন্তার মাধ্যমে কোম্পানির পণ্য দেশব্যাপী পরিচিতি পায়। তিন ব্র্যান্ড সম্পর্কে ভোক্তাসাধারণকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং পণ্যটির প্রচার ও প্রসারের জন্য কাজ করে থাকেন। পণ্যের সঙ্গে ক্রেতার একটা সম্পর্ক তৈরি করে দেয়াই মূলত কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজারের কাজ।
যাযাদিঃ সে ক্ষেত্রে আপনি কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
মনির হোসেনঃ অন্য প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর মতো কিছু কমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যেমন দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোতে আমরা বিজ্ঞাপন দিচ্ছি; লিফলেট, পোস্টার বিলি হচ্ছে। বিলবোর্ড ও প্রিন্ট মিডিয়ায় আমরা পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞাপনে যাবো। এছাড়া আপনারা জানেন, ডাবরের বিজ্ঞাপন স্যাটেলাইট চ্যানেল খুললেই দেখা যায় এবং এ দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে আমরা নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করেছি।
যাযাদিঃ এতে আপনার স্থানে কতোটুকু সফল হয়েছেন বলে মনে হয়?
মনির হোসেনঃ সফলতার সংজ্ঞা আমার কাছে অনেক ব্যাপক। তবে এতোটুকু বলবো, এ কোম্পানিতে এক বছর হলো শুরু করেছি, প্রচার ও প্রসারের যে দিকগুলো আছে সেগুলো এরই মধ্যে গুছিয়ে এনেছি। আশা করি, সামনে এর একটা ভালো ফল পাবো। কিছু পণ্যের বিক্রি এরই মধ্যে অনেকটা বেড়ে গেছে যেমন- ভাটিকা শ্যাম্পু ও কোকোনাট অয়েল এবং আমলা হেয়ার অয়েল। তবে আপামর জনগণের কাছে আমরা এখনো সেভাবে পৌঁছতে পারিনি। আশা করছি, শিগগির আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো।
যাযাদিঃ ডাবর ভারতের একটি অতি পুরনো ব্র্যান্ড। বাংলাদেশে এর কার্যক্রম শুরু হয় কখন?
মনির হোসেনঃ ২০০৩ সালে ১২৫ বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ ডাবর এশিয়ান কনজিউমার কেয়ার (প্রা·) লিমিটেড নামে এ দেশে কার্যক্রম শুরু করে এসিআইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। ২০০৭ সালের জুলাই থেকে এ দেশে আলাদাভাবে বাজারজাতের কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর থেকে চলছে আমাদের পথচলা।
যাযাদিঃ ডাবর একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি। আপনি এর ব্র্যান্ড ম্যানেজার। এ পজিশনে এলেন কীভাবে?
মনির হোসেনঃ আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডে (রূপচাঁদা) আমার প্রথম চাকরি। সেখানে কাজের সুবাদে এ কোম্পানিতে ডাক আসে। ওই কোম্পানির নিয়ম হলো- রুট লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। আমি রুট লেভেল থেকেই শুরু করে ন্যাশনাল সেলস ইনর্চাজ ও মার্কেটিং ইনর্চাজে পদোন্নতি পাই। সেলস ও মার্কেটিংয়ের কাজ অনেক কঠিন, অনেক চ্যালেঞ্জিং। সৃজনশীল চিন্তাশক্তি ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করে মার্কেটিংয়ের পলিসিটা রপ্ত করেছি। প্রতিনিয়ত নানা রকম মার্কেটিং সমস্যার সমাধান করতে করতে মার্কেটিংয়ে সৃজনশীলতা বেড়েছে। আমার পরীক্ষিত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা আছে বলেই ২০০৭ সালের নভেম্বরে ডাবর কোম্পানিতে ব্র্যান্ড ম্যানেজার পদে ডাক আসে এবং এখানে জয়েন করি।
যাযাদিঃ নতুন যারা এ পেশায় আসতে ইচ্ছুক, তাদের কোন কোন যোগ্যতা থাকাটা জরুরি?
মনির হোসেনঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকাটা প্রথম জরুরি, মার্কেটিং বিষয়ে পড়াশোনা হলে ভালো। অন্য বিষয় হলেও ক্ষতি নেই। সেলস নলেজ থাকাটা দরকার। পূর্ব অভিজ্ঞতার খুব দরকার, সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশে অনেক কোম্পানি আছে, যেখানে পার্টটাইমের সুযোগ আছে। তাছাড়া পড়াশোনার পরে ইন্টার্নির ব্যবস্থা আছে। চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতার খুবই মূল্যায়ন হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি এ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। কারণ ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স মানুষকে অনেক ডেভেলপ করে। এটা একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। সে ক্ষেত্রে ধৈর্যশীল, সৎ, পরিশ্রমী ও মননশীল হওয়াটা জরুরি। এক কথায় অলরাউন্ডার হতে হবে।
যাযাদিঃ ক্যারিয়ার ডেভেলপের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত?
মনির হোসেনঃ দায়িত্ববান, সিনসিয়ারিটি, পরিশ্রমী, উন্নত চিন্তা ও একটা লক্ষ্য থাকতে হবে, তাহলে তার জীবনে সফলতা আসবে বলে আমি মনে করি।
যাযাদিঃ আপনার এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মনির হোসেনঃ প্রথমত· নিজের সৃজনশীলতা ও স্বকীয়তা বাড়াতে চাই। ডাবরের পণ্যের ব্যবহার এ দেশের মানুষ কম করলেও এর কমবেশি একটা পরিচিতি আছে। আমার মূল কাজ হবে ডাবরের পণ্যগুলোকে সব শ্রেণীর মানুষের অন্যতম ব্যবহৃত ব্র্যান্ডে পরিণত করা। ডাবরের মোট ১৪টি পণ্য বাংলাদেশে রয়েছে। ডাবর হানি, ভাটিকা কোকোনাট অয়েল, ভাটিকা শ্যাম্পু, আমলা হেয়ার অয়েল, চ্যাবনব্রাশ, মেছওয়াক টুথপেস্ট, অডোনিল, হাজমোলা, বাবুল টুথপেস্ট, ভাটিকা ফেসপ্যাক, ন্যাচার কেয়ার ইসবগুল, অডোমস, গোলাবারি গোলাপ জল প্রভৃতি।
**************************
বাবুল হৃদয়
যায়যায়দিন, ১১ নভেম্বর ২০০৮।