ছাত্রজীবনে প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা শেষ করে নিজেকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার। ক্যারিয়ারের সম্মানজনক স্থানে অবস্থান করে একটা সুখের নীড় গড়ার। পরিকল্পনানুযায়ী প্রস্তুতি না থাকার কারণে অনেকেরই সে স্বপ্ন পূরণ হয় না। ভেঙেচুরে খান খান হয়ে যায় ছাত্রজীবনের সোনালি স্বপ্নটি। তখন তাকে অনেক হতাশার মধ্যে পড়তে হয়। জীবনমানকে ঠিক রাখা তার কাছে বড় দায় হয়ে গড়ায়। ব্যর্থতার গস্নানি তিলে তিলে শেষ করে দেয়। তাই সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলার জন্য ছাত্রজীবন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। এ প্রস্তুতি নেয়াকে আরো সহজ করতে আপনার জন্য রইলো আটটি পরামর্শ। পরামর্শগুলো মেনে চললে নিজেকে সমৃদ্ধশালীভাবে গড়ে তুলতে পুরোপুরি না পারলেও গন্তব্যের অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছাবেন এটা নিশ্চিত।
মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন
ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ছাত্রজীবন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করুন। হুট করে কোনো কাজ করতে যাবেন না। ফেইলিওর হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন। ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ডেভেলপ করা আপনার পক্ষে তখন কঠিন হয়ে যাবে। ধৈর্য ধরুন। এখন থেকেই জীবন-রণক্ষেত্রে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন।
ভীতি কাটিয়ে উঠুন
ছোটবেলা থেকে আমাদের মনে বিভিন্ন ভয় কাজ করে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব মানসিক ভয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে ক্যারিয়ার দ্রুত ডেভেলপ করা সম্ভব হয় না। তাছাড়া অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পারিবারিক কলহ, পরিচিতির অভাব ইত্যাদি সমস্যা মাথায় থাকলে নিজেকে অনেক দুর্বল মনে হয়। মনে রাখবেন জীবন চিরদিনই সংগ্রামমুখর। এসবে ভয় পাবেন না। দৃঢ় প্রত্যয়ী হোন। ভীতিগুলো জয় করার চেষ্টা করুন।
অন্যকে জানতে শিখুন
মনীষীদের জীবনী পড়ায় অভ্যস্ত হোন। তাদের নিয়ে ভাবুন। মনীষীদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা অত্যন্ত দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বড় হয়েছেন। জীবনকে গড়ে নিতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। তাদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করুন। এতে আপনার কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে। যে কোনো কঠিন কাজ মোকাবেলা করার সাহস আসবে।
নিজেকে নিয়ে ভাবুন
এখন থেকেই নিজেকে নিয়ে চিন্তা করুন। আপনি কী হতে চান? কী ধরনের কাজ বেছে নিতে ইচ্ছুক? কাজের সঙ্গে আপনার শারীরিক অবস্থা মানানসই হবে কি না? বর্তমান মানসিক অবস্থা কেমন? পরিবার কিংবা বাইরে থেকে কী পরিমাণ আর্থিক সাপোর্ট পাবেন? নিজেকে কিভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরবেন? আপনার প্রধান আদর্শ কি কি? এ আদর্শগুলো নিয়ে সামনের দিকে এগোতে পারবেন কি না? আপনার ভবিষ্যৎ ইচ্ছা কি? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন।
নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়ুন
নিয়মিত পত্রপত্রিকা পড়ার অভ্যাস রপ্ত করুন। দেশকে চিনতে শিখুন। বিদেশকে জানুন। ক্যারিয়ার পেজগুলো বেশি করে লক্ষ্য করুন। এতে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়তে সুবিধা হবে।
অভিজ্ঞ পরামর্শদাতা খোঁজ করুন
অনুপ্রেরণা, অভিজ্ঞতা, বাস্তবজ্ঞান, আশাবাদ এসব পেতে হলে একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতার শরণাপন্ন হতে হবে। তাদের অনুসরণ করতে হবে। আপনার ব্যক্তিগত সমস্যার কথা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তাদের জানাতে হবে। সমস্যার সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সহজ পথগুলো জেনে নিতে হবে। জেনে রাখুন, জীবনমান উন্নয়নে একজন বিজ্ঞ পরামর্শদাতা বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই একজন পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয়তা কখনোই অগ্রাহ্য করবেন না।
নিজেকে স্মার্ট করে তুলুন
ছাত্রজীবন থেকেই নিজেকে স্মার্ট করে তুলুন। ভাষাগত জ্ঞান, কথা বলার আধুনিক স্টাইল, চালচলন, যুগোপযোগী পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহারে মনোযোগী হোন। এছাড়া ইংরেজিতে নিজেকে দক্ষ করে তুলুন। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নেট ব্যবহার করতে শিখুন। কম্পিউটারের কোর্সগুলো সম্পন্ন করে রাখুন।
কৌশলী হোন
কৌশলী ব্যক্তির জয় সুনিশ্চিত। নিজেকে বড় করতে হলে আপনাকে আগে কৌশলী হতে হবে। তাই কৌশলী হওয়ার সহজ উপায়গুলো অনুসরণ করুন। আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি নিয়ে বেশি করে ভাবুন। অজানা তথ্যগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করুন। বিজ্ঞজনের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়নের গোপন কথাগুলো জেনে নিন এবং কার্যক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করুন।
**************************
দিপংকর দিপক
যায়যায়দিন, ১১ নভেম্বর ২০০৮।