পড়াশোনা শেষ করে কমবেশি সবাই তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত থাকে। কোন পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন- এ নিয়ে ভীষণ সমস্যার মধ্যে পড়ে যায় সবাই। তাছাড়া কোন ক্যারিয়ার নিজের সঙ্গে ম্যাচ করবে বা কোন ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ ভালো- এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে কেটে যায় অনেকটা সময়। তবে নিজেকে ভবিষ্যতে ভালো একটি পজিশনে দেখতে চাইলে শুধু পড়াশোনাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে আরো কিছু বিষয় আয়ত্ত করা প্রয়োজন। বর্তমানে কম্পিটিশন বেড়ে যাওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি এ বিষয়গুলোর ওপরই ব্যাপক জোর দেয়া হচ্ছে। ভালো একটি চাকরি পেতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি আর কোন কোন বিষয়ের প্রতি আপনার জোর দেয়া প্রয়োজন, চলুন জেনে নিই সে সম্পর্কে।
স্পেশালাইজেশনঃ চাকরির ক্ষেত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ কোম্পানিতেই স্পেশালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে। স্পেশালাইজেশন বলতে বোঝায় কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করা। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনি হয়তো একাউন্টিং বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। একাউন্টিংয়ের অধিকাংশ বিষয় আপনার নখদর্পণে থাকা মানেই এ বিষয়টির ওপর আপনার স্পেশালাইজেশন রয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টিতে আপনি বেশ এক্সপার্ট। আর বিষয়টি যদি তা-ই হয়, তবে আপনার চাকরি আর কেউ আটকে রাখতে পারবে না। কারণ এখন এক্সপার্টদেরই জয়জয়কার। কোম্পানিগুলো এক্সপার্ট লোক নিয়োগের প্রতিই বেশি আগ্রহী। যে লোক কোনো বিষয়ে যতো বেশি এক্সপার্ট ওই বিষয়ে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তার ততো বেশি। তাছাড়া এক্সপার্টদের জন্য বেশ উচ্চ বেতনের চাকরির অফার করে থাকে কোম্পানিগুলো। তাই বর্তমানে এ দিকটাতেই জোর দেয়া খুবই জরুরি।
কম্পিউটারে দক্ষতাঃ বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে হয় সবাইকে। আর তাই এ প্রযুক্তির যুগের প্রধান উপাদান কম্পিউটার সম্পর্কে থাকতে হবে ভালো, স্বচ্ছ এবং সঠিক ধারণা। বর্তমানে যে কোনো ধরনের চাকরিতে কম্পিউটার লিটারেসি চাওয়া হয়। তাই কম্পিউটারে দক্ষতা ছাড়া ভালো একটা চাকরির আশা করা নিতান্তই বোকামি হয়ে যাবে। আর এ কারণে এখনো যদি কম্পিউটার চালনা শিখে না থাকেন, তবে জলদি করে শিখে ফেলুন। দেখবেন চাকরি পেতে এটি অনেক সহায়তা দেবে আপনাকে।
টেকনিক্যাল দক্ষতাঃ বিশাল জনসংখ্যার এক দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। এ দেশে প্রতিবছর যে পরিমাণ নতুন চাকরিপ্রার্থী তৈরি হচ্ছে, সে পরিমাণ চাকরির পদ তৈরি হচ্ছে না বা নতুন ক্ষেত্রও বাড়ছে না। ফলে দিন দিন বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে আপনি নিজেকে টেকনিক্যাল বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারেন। এক্ষেত্রে অটো মেকানিক, কার্পেন্টার, কনস্ট্রাকশন কন্ট্রাক্টর, ইলেকট্রিশিয়ান, হেয়ার স্টাইলিস্টসহ এ ধরনের অনেক টেকনিক্যাল বিষয়ে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারেন, যা আপনার ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
কনসেপচুয়াল দক্ষতাঃ বর্তমানে কোম্পানিগুলো কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কনসেপচুয়াল দক্ষতার ওপর বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ফলে এর গুরুত্ব কিন্তু অনেক। সব সময় নতুন কিছু করার চিন্তা মাথাতে রাখুন। কনসেপচুয়ালি যে যতো বেশি এক্সপার্ট, চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা ততো বেশি। তাছাড়া শুধু ভালো কনসেপচুয়াল দক্ষতার মাধ্যমে আপনি দ্রুত ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। তাই এ দিকটায় নজর দেয়াটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সফল স্কিলঃ বর্তমানে অর্গানাইজেশনগুলো এমপ্লয়ি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের ওপর বেশ জোর দিয়ে থাকে। যেসব চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে খুব ভালো কমিউনিকেশন, লিডারশিপ এবং রিলেশনশিপ স্কিল থাকে, সেসব প্রার্থীই ক্যারিয়ারে দ্রুত এগিয়ে যায়। কোম্পানিগুলো এমন লোক নিয়োগ করতে চায়, যারা প্রায় সব ধরনের মানুষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম হবে। তাই এসব স্কিল আয়ত্ত করার মাধ্যমে আপনি ভালো একটি চাকরি পেতে পারেন, যা আপনার ক্যারিয়ারকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।
নিজেকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুনঃ চাকরির বাজারে নিজেকে স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এক্ষেত্রে সব সময় নতুন এবং ভালো কিছু করার প্রতি আপনার মনোযোগ থাকা উচিত। তাছাড়া আপনার ভ্যালু, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং ট্যালেন্ট- এ সবকিছুই আপনাকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে। আরেকটু বাড়িয়ে বলতে গেলে বলা যায়, ভাবুন আপনি কি ধরনের পোশাক পরছেন, কোন কলমটি ব্যবহার করছেন বা কোন ব্রিফকেসটি সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন। এর সবকিছুই আপনার ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে তথা আপনার নিজস্ব ব্র্যান্ড আমেজ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই এসব বিষয়ে আরো বেশি মনোযোগী হোন।
হয়ে যান নিজের ক্যারিয়ারের সিইওঃ এমন কোনো পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন না, যা আপনাকে নিশ্চিতভাবে আপনার পছন্দের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করতে পারবে। তাই সবচেয়ে ভালো আইডিয়া হলো নিজেই নিজের ক্যারিয়ারের সিইও হয়ে যান। আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার একটি পোর্টফোলিও তৈরি করুন। আপনার সিভি নিয়মিত আপডেট করুন। তাছাড়া লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগও নিয়মিত রক্ষা করে চলুন। আর সেই সঙ্গে কখন কোন অপরচুনিটি তৈরি হচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন থাকুন। সাফল্য অবশ্যম্ভাবী।
এ ধরনের বেশকিছু বিষয়ে নিজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে চাকরির এ বাজারে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন আরো বেশি যোগ্য হিসেবে, যা নিশ্চিতভাবেই আপনার একটি ভালো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করবে। তাই আর দেরি না করে দ্রুত নিজেকে প্র‘ত করে নিন আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ারের উপযোগী করে।
**************************
এস রহমান
যায়যায়দিন, ০৪ নভেম্বর ২০০৮।