আপনার বয়স যদি হয় ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে তাহলে আপনি দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত শ্রম বাজারে প্রবেশ করে উন্নত ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন। অতি অল্প টাকা খরচ করে কোরিয়ান ভাষা শিখে যেতে পারেন দক্ষিণ কোরিয়া। যেখানে নূøনতম বেতন হবে ১০০০ ডলার থেকে ১৫০০ ডলার। কোন কোন ক্ষেত্রে ওভার টাইম করারও সুযোগ আছে। সম্প্রতি বর্তমান সরকার দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইপিএস সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন সেক্টরে লোক নিয়োগ দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারি মাসে প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন এবং পরে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। এতে বিভাগ ওয়ারী কোটা ভিত্তিক আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে ৬৬০০ জনকে প্রি-রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে থেকে ৫০০০ জনের অধিক লোক ভাষা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়। পরবর্তীতে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেডিকেল টেস্ট হয়, এর মধ্যে ২৯১৫ জন টেস্টে উত্তীর্ণ হয়। মেডিকেল টেস্টে উত্তীর্ণদের সবাই কোরিয়াতে চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করে। ইতোমধ্যে ২৩/০৭/০৮ইং তারিখ পর্যন্ত ৮০৯ জনের চাকরির অফার এসেছে। চাকরির অফার আসার পর ট্রাম্স এন্ড কন্ডিশন সম্বলিত চাকরির চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের সম্মতি দেওয়ার পর, ইতোমধ্যে কয়েক শ’ লোক বৈধভাবে কোরিয়াতে চাকরিতে যোগদান করেছে এবং তারা ভাল আছে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিকভাবে ১০,০০০ (দশ হাজার) লোক পাঠানোর চুক্তি হয়।
দক্ষিণ কোরিয়াতে ক্যারিয়ার গঠনে প্রথম শর্ত হলো কোরিয়ান ভাষা জানা। ভাষা শুনে বুঝা ও বলা। আপনি যদি কোরিয়াতে চাকরির জন্য যেতে চান তাহলে দ্রুত কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার বই কিনে অনুশীলন করতে থাকুন। ইদানিং বাজারে অনেক ভাল ভাল বই ও অভিধান অডিও সিডি পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যারা কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে জানা গেছে মাত্র এক সপ্তাহ প্র্যাকটিস করলে কোরিয়ান ভাষায় রিডিং পড়া যায়। একটি মজার ব্যাপার হলো এই যে, কোরিয়ান ভাষার স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জন বর্ণগুলোর উচ্চারণ হুবহু বাংলা বর্ণের সাথে মিল আছে। শুধু লেখার আকৃতি পার্থক্য বর্ণ সংখ্যাও খুব কম। তাই যে কেউ ইচ্ছা করলে নিজের চেষ্টা ও কোন ভাষা শিক্ষার কোচিং-এর সহায়তায় সহজেই ভাষাটা শোনা ও বলা শিখে নিতে পারে।
ঢাকা শহরে ও বিভিন্ন জেলা শহরে কোরিয়ান ভাষা শিক্ষার অনেক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর একটিতে ভর্তি হয়ে আপনি গড়ে নিতে পারেন আপনার ভবিষ্যত। তবে অধিকাংশ কোচিংই মানসম্মত নয়। ঢাকা শহরে যে কয়টি কোচিং সেন্টার আছে তার মধ্যে কোরিয়ান একটি এনজিও পরিচালিত ‘কোরিয়ান কালচার সেন্টার’ অন্যতম যা ফার্মগেইটে অবস্থিত। যেখানে কোরিয়ান শিক্ষক দ্বারা ক্লাস নেওয়া হয়। তাছাড়া জার্মান টেকনিক্যাল কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সেন্টার, জেনিথ, একুশে, জিংকু ইত্যাদি বিভিন্ন নামে কোচিং সেন্টার রয়েছে এর যেকোন একটিতে ভর্তি হয়ে প্র্যাকটিস শুরু করতে পারেন।
বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন সংস্থা, বাংলাদেশ ওভারসীজ এমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) কর্তৃক, সংবাদপত্রও ওয়েব সাইটের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন তারিখ ও সময় জানানো হয়। ওয়েব সাইটের এড্রেস htp:/www.eps.go.kr.পর। রেজিস্ট্রেশন একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। একজন ব্যক্তিকে যে সব তথ্য প্রদান করতে হবে তাহলো নাম (পাসপোর্ট অনুযায়ী), পাসপোর্ট নম্বর, জন্ম তারিখ (দিন, মাস ও বছর) স্থায়ী ঠিকানার বিভাগের নাম (যেমনঃ ঢাকা বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ ইত্যাদি)। প্রি-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে একটি সাকসেসফুল লেটার আসবে যা প্রিন্ট করে রাখতে হবে। এই প্রিন্ট কপি সাথে নিয়ে ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ও তারিখে বোয়েসেলে উপস্থিত হয়ে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ফাইনাল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
পরীক্ষাটি দুটি পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব (Listening) ‘শোনা’ অর্থাৎ পরীক্ষার্থী সামনে একটি রুমে একটি অডিও প্লেয়ার বাজবে যা শুনে পরীক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর এমসিকিউ পদ্ধতিতে পূরণ করবে। দ্বিতীয় পর্বটি হলো (Reading) অর্থাৎ ‘পড়া’ প্রশ্নপত্র পড়ে বুঝে উত্তর দিবে। যারা যত দ্রুত পড়তে পারবে বা শব্দের অর্থ যাদের বেশি জানা আছে তারাই বেশি ভাল করতে পারবে।
এই পদ্ধতিতে ২৫টি করে মোট ৫০টি প্রশ্ন থাকবে, পরীক্ষার পূর্ণমান হবে ২০০ নম্বর। যারা ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় শোনা ও পড়ায় প্রত্যেকটিতে নূøনতম ৪০ এবং সর্বমোট নূøনতম ১২০ নম্বর পেলে উত্তীর্ণ বলে ধরা হবে।
বর্তমানে 1000 Listening, 1000 Reading সহ মোট ২০০০ এর প্রশ্ন ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে ওয়েব পেজ-এ যার এড্রেস www.boesl.org.bd উক্ত সাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন অথবা বাজার থেকে ছাপানো বই ও সিডি কিনে প্র্যাকটিস করতে পারেন। একটু মনোযোগী হলে ৩ মাস অধ্যায়ন করলে আপনি নিশ্চিত উত্তীর্ণ হবেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর মেডিকেল চেকআপ হবে। উত্তীর্ণ হলে চাকরিতে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আবেদন পত্র পূরণের ক্ষেত্রে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন প্রাইমারি, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক, ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পিএইচডি ও অন্যকোন টেকনিক্যাল এডুকেশন উল্লেখ করতে পারেন। এডুকেশনাল কোয়ালিফিকেশন উল্লেখ না করলেও কোন অসুবিধা নাই। আপনি কোরিয়াতে যে যে সেক্টরে কাজের সুযোগ পাবেন তাহলো ইন্ডাস্ট্রি, কৃষি ফার্ম, মৎস আহরণ ও কন্সট্রাকশন প্রভৃতি। প্রত্যেকটির আবার সাব ইন্ডাস্ট্রি আছে। যেমন- ম্যানুফেকচারিং অফ ফুড প্রোডাক্টস এন্ড বেভারেজ, ম্যানুফেকচার অফ টোবাকো প্রোডাক্টস, টেক্সটাইল, লেদার, ফুটওয়্যার, ফার্নিচার পেপার এন্ড পাল্প, প্রিন্টিং পাবলিশিং, নিউজ পেপার এন্ড রেকর্ড, মিডিয়া, কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদি।
এগ্রিকালচারঃ Cultivation, Stock-breeding, Animal Husbandry service Activities.
আপনার ক্যারিয়ার গঠনের সবচেয়ে পজেটিভ দিক হলো স্বল্প খরচে একটি উন্নত দেশে সম্পূর্ণ বৈধভাবে একটি স্মার্ট সেলারী ড্র করবেন। এবং একটি দেশে শ্রম আইনের সমস্ত সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। যা দেশের জন্য বয়ে আনবে রেমিটেন্স। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের চুক্তি হলেও পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। আর একটি নতুন দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সাথে পরিচিত সেটাওবা কম কী? তো আর দেরী নয় আজই মনস্থির করে ফেলুন। আপনি একজন দক্ষিণ কোরিয়ার যাত্রী।
*************************
এস· এম· মেহেদী হাসান
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৬ জুলাই ২০০৮