- Home
- কল সেন্টার
- কলসেন্টারে কর্মসংস্থান
কলসেন্টারে কর্মসংস্থান
- By Career Poster
- Published 06/8/2008
- কল সেন্টার
-
Rating:




দেশের ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা কলসেন্টারের ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছেন। দেশে কল সেন্টার ব্যবসায় সফল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। এই খাতে ইতিমধ্যেই সফল দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশের শ্রমমূল্য অনেক কম। কলসেন্টারের ব্যবসা চালু হলে দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গত ৩০ মে ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে চাকরির ওয়েব পোর্টাল প্রথম আলো জবস ডট কম আয়োজিত কল সেন্টার-বিষয়ক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় দেশে কলসেন্টারের ব্যবসার সম্ভাবনা, সুবিধা-অসুবিধা, লাইসেন্সপ্রাপ্তি, কারিগরি ও ব্যয় খাতসহ ব্যবসার নানা দিক তুলে ধরা হয়।
কল সেন্টার কী
কল সেন্টার ব্যবসার মূল কথাই হচ্ছে ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা প্রদান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সালেহ জিল্লুর রহমান জানান, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফোনের মাধ্যমে কম খরচে তাদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র চালু করতে চাইলে নির্ভর করে কম শ্রমমূল্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের নানা প্রতিষ্ঠানকে এ সেবা দিয়ে আসছে। উন্নত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কল ফরওয়ার্ডের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের কলটি পাঠিয়ে দেয় নির্দিষ্ট কোনো কলসেন্টারের নম্বরে। আর কল সেন্টারটি গ্রাহকের চাহিদামাফিক বিভিন্ন সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান দেয় ফোনের মাধ্যমেই।
কর্মশালার নানা দিক
সম্ভাবনাময় এ খাত সম্পর্কে মানুষের ধারণা আরও স্পষ্ট করতেই প্রথম আলো জবস ডট কম এ উদ্যোগ নিয়েছে- জানালেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম ই চৌধুরী শামীম। দিনব্যাপী আয়োজনে কলসেন্টারে দরকারি সব সফটওয়্যারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জেনুইটি সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী পরিচালক এম আনিস রহমান বলেন, ‘কল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে কম্পিউটার ও ভিওআইপি সরঞ্জাম তো আছেই।’ তিনি আরও জানান, আমাদের দেশের জন্য কলসেন্টারের চেয়েও উপযোগী হবে কনট্রাক সেন্টার। কলসেন্টারের মাধ্যমে শুধু শব্দ বা মৌখিকভাবে বিভিন্ন সেবা দেওয়া যায়। অপর দিকে কন্ট্রাক সেন্টারের মাধ্যমে শব্দগত সেবার পাশাপাশি এসএমএস, ই-মেইল, ভিডিও এমনকি চাহিদামাফিক সফটওয়্যারও নির্মাণ করে দেওয়া যায়। কর্মশালায় অংশ নেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রায় ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো জবস ডট কমের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা এ খান রূপা।
চাই প্রশিক্ষিত কর্মী
কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণই পারে এ খাতে সফলতা এনে দিতে। যে বিষয়ে কল সেন্টারটি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাবে, সে বিষয়ে এবং যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করবে সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কর্মীদের পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন প্রাঞ্জলভাবে গ্রাহকের ভাষায় কথা বলতে পারার যোগ্যতা। এ ব্যাপারে বক্তারা উদ্যোক্তাদের সামনে কিছু ভিডিওচিত্র তুলে ধরে জানান, সঠিকভাবে সঠিক কথাটি বলতে না পারলে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।
অর্থের জোগান
প্রথম আলো জবসের কর্মশালায় উঠে আসে অর্থের বিষয়টিও। উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো• তৌহিদুল আলম খান। তিনি জানান, নতুন এই খাতটিকে এখনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। সাধারণত, এ খাতে ঋণ নিতে অন্যান্য কাগজপত্র ছাড়াও প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট ব্যবসায় কমপক্ষে দুই বছর পুরোনো ট্রেড লাইসেন্স। তবে এই খাতটি নতুন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যবসার দুই বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্স দেখালেই চলবে। সাধারণত ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুঁজি ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘চলতি মূলধন’ দিয়ে থাকে।
কর্মশালায় আরও যা ছিল
কল সেন্টার ব্যবসার নানা আইনকানুন ও বিটিআরসির এ-বিষয়ক নীতিমালা উদ্যোক্তাদের সামনে ব্যাখ্যা করেন ব্যারিস্টার আলী বাশার । উদ্যোক্তাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কলসেন্টারের নীতিমালাটি প্রয়োজনে যে কেউ বিটিআরসির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইতিমধ্যেই এ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সারা দিন কল সেন্টার বিষয়ক নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন করিম অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ করিম, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমার্জ বাংলাদেশ এন্ড্রো মিডিয়া আউটসোর্সিংয়ের কনসালট্যান্ট ওয়ারেন বেড্ডে ও আলী কায়েস, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড• মশিউর রহমান, কিউএআই ইন্ডিয়া লিমিটেডের শ্রীকান্ত বিজয়করসহ আরও অনেকে। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন পাটওয়ারী ও নাহিদুল হাসান।
সামনে এখনো বিস্তর বাধা
বিশ্বের ১৯৪টি দেশ অনলাইনে লেনদেন (ই-কমার্স) করতে পারলেও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমাদের দেশ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন না দেওয়ায় এ ব্যাপারে নিরুপায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন বাণিজ্য। একই কারণে আমরা কল সেন্টার খাতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে পারি। এ ছাড়া কম গতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎবিভ্রাট আর একটিমাত্র সাবমেরিন কেব্ল সংযোগের সমস্যা তো আছেই। আর আছে অভিজ্ঞতা, ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব।
তার পরও আশাবাদ
এ খাতকে উৎসাহ দিতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দুই শতাধিক কল সেন্টার ব্যবসার লাইসেন্স দিয়েছে। আমাদের একটি বড় সুবিধা হলো পশ্চিমা দেশগুলোতে যখন রাত, আমাদের এখানে তখন দিন। আর রাতে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই সহজে কাজ করাতে চায় না। এ সুবিধাটা কাজে লাগাতেই পারি আমরা। আর নতুন যেকোনো কিছুর শুরুতে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। বাংলাদেশ ওপেনসোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার পরও আমাদের দেশের সাফল্যের কোটাটা একেবারে শূন্য নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা, আমরা লড়াই করতে জানি। ভালো কিছু করতে হলে লড়তে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা লড়াই করে এ দেশটাকে এনে দিয়েছেন। আর এখন আমাদের পালা।’
**************************
আরাফাত সিদ্দিকী সোহাগ
প্রথম আলো, ৭ জুন ২০০৮
কল সেন্টার কী
কল সেন্টার ব্যবসার মূল কথাই হচ্ছে ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা প্রদান। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সালেহ জিল্লুর রহমান জানান, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ফোনের মাধ্যমে কম খরচে তাদের গ্রাহকসেবা কেন্দ্র চালু করতে চাইলে নির্ভর করে কম শ্রমমূল্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের নানা প্রতিষ্ঠানকে এ সেবা দিয়ে আসছে। উন্নত দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কল ফরওয়ার্ডের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের কলটি পাঠিয়ে দেয় নির্দিষ্ট কোনো কলসেন্টারের নম্বরে। আর কল সেন্টারটি গ্রাহকের চাহিদামাফিক বিভিন্ন সমস্যা বা প্রশ্নের সমাধান দেয় ফোনের মাধ্যমেই।
কর্মশালার নানা দিক
সম্ভাবনাময় এ খাত সম্পর্কে মানুষের ধারণা আরও স্পষ্ট করতেই প্রথম আলো জবস ডট কম এ উদ্যোগ নিয়েছে- জানালেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম ই চৌধুরী শামীম। দিনব্যাপী আয়োজনে কলসেন্টারে দরকারি সব সফটওয়্যারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে জেনুইটি সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী পরিচালক এম আনিস রহমান বলেন, ‘কল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা। সেই সঙ্গে কম্পিউটার ও ভিওআইপি সরঞ্জাম তো আছেই।’ তিনি আরও জানান, আমাদের দেশের জন্য কলসেন্টারের চেয়েও উপযোগী হবে কনট্রাক সেন্টার। কলসেন্টারের মাধ্যমে শুধু শব্দ বা মৌখিকভাবে বিভিন্ন সেবা দেওয়া যায়। অপর দিকে কন্ট্রাক সেন্টারের মাধ্যমে শব্দগত সেবার পাশাপাশি এসএমএস, ই-মেইল, ভিডিও এমনকি চাহিদামাফিক সফটওয়্যারও নির্মাণ করে দেওয়া যায়। কর্মশালায় অংশ নেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের প্রায় ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো জবস ডট কমের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা এ খান রূপা।
চাই প্রশিক্ষিত কর্মী
কর্মীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণই পারে এ খাতে সফলতা এনে দিতে। যে বিষয়ে কল সেন্টারটি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাবে, সে বিষয়ে এবং যে প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করবে সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কর্মীদের পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন প্রাঞ্জলভাবে গ্রাহকের ভাষায় কথা বলতে পারার যোগ্যতা। এ ব্যাপারে বক্তারা উদ্যোক্তাদের সামনে কিছু ভিডিওচিত্র তুলে ধরে জানান, সঠিকভাবে সঠিক কথাটি বলতে না পারলে অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে।
অর্থের জোগান
প্রথম আলো জবসের কর্মশালায় উঠে আসে অর্থের বিষয়টিও। উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রাইম ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো• তৌহিদুল আলম খান। তিনি জানান, নতুন এই খাতটিকে এখনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত হিসেবেই দেখছেন তাঁরা। সাধারণত, এ খাতে ঋণ নিতে অন্যান্য কাগজপত্র ছাড়াও প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট ব্যবসায় কমপক্ষে দুই বছর পুরোনো ট্রেড লাইসেন্স। তবে এই খাতটি নতুন হওয়ায় এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো ব্যবসার দুই বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্স দেখালেই চলবে। সাধারণত ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুঁজি ও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘চলতি মূলধন’ দিয়ে থাকে।
কর্মশালায় আরও যা ছিল
কল সেন্টার ব্যবসার নানা আইনকানুন ও বিটিআরসির এ-বিষয়ক নীতিমালা উদ্যোক্তাদের সামনে ব্যাখ্যা করেন ব্যারিস্টার আলী বাশার । উদ্যোক্তাদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কলসেন্টারের নীতিমালাটি প্রয়োজনে যে কেউ বিটিআরসির ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইতিমধ্যেই এ ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এমন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। সারা দিন কল সেন্টার বিষয়ক নানা অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন করিম অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী পরিচালক ফাহাদ করিম, দক্ষিণ আফ্রিকার ইমার্জ বাংলাদেশ এন্ড্রো মিডিয়া আউটসোর্সিংয়ের কনসালট্যান্ট ওয়ারেন বেড্ডে ও আলী কায়েস, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড• মশিউর রহমান, কিউএআই ইন্ডিয়া লিমিটেডের শ্রীকান্ত বিজয়করসহ আরও অনেকে। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন পাটওয়ারী ও নাহিদুল হাসান।
সামনে এখনো বিস্তর বাধা
বিশ্বের ১৯৪টি দেশ অনলাইনে লেনদেন (ই-কমার্স) করতে পারলেও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমাদের দেশ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন না দেওয়ায় এ ব্যাপারে নিরুপায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে অনলাইন বাণিজ্য। একই কারণে আমরা কল সেন্টার খাতে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে পারি। এ ছাড়া কম গতির ইন্টারনেট, বিদ্যুৎবিভ্রাট আর একটিমাত্র সাবমেরিন কেব্ল সংযোগের সমস্যা তো আছেই। আর আছে অভিজ্ঞতা, ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব।
তার পরও আশাবাদ
এ খাতকে উৎসাহ দিতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দুই শতাধিক কল সেন্টার ব্যবসার লাইসেন্স দিয়েছে। আমাদের একটি বড় সুবিধা হলো পশ্চিমা দেশগুলোতে যখন রাত, আমাদের এখানে তখন দিন। আর রাতে দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানই সহজে কাজ করাতে চায় না। এ সুবিধাটা কাজে লাগাতেই পারি আমরা। আর নতুন যেকোনো কিছুর শুরুতে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকবেই। বাংলাদেশ ওপেনসোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, ‘শত প্রতিকূলতার পরও আমাদের দেশের সাফল্যের কোটাটা একেবারে শূন্য নয়। আমাদের সবচেয়ে বড় যোগ্যতা, আমরা লড়াই করতে জানি। ভালো কিছু করতে হলে লড়তে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষেরা লড়াই করে এ দেশটাকে এনে দিয়েছেন। আর এখন আমাদের পালা।’
**************************
আরাফাত সিদ্দিকী সোহাগ
প্রথম আলো, ৭ জুন ২০০৮