Career Guide - http://careermela.net
আতংক নয়-স্বপ্ন গড়ার সিঁড়ি
http://careermela.net/articles/285/1/aaaa-aa-aaaaaa-aaaa-aaaaa/Page1.html
By Career Poster
Published on 06/7/2008
 
ভাইভা পরীক্ষা ভাইভা পরীক্ষা প্রত্যেক চাকরি প্রার্থীর জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা নিয়োগকর্তার সাথে মাত্র বিশ বা ত্রিশ মিনিটের এই আলোচনার উপর নির্ভর করে একজন চাকরি প্রার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা। অনেক মেধাবী চাকরি প্রার্থীর মনেও ভাইভা আতংক দেখা যায়। অথচ সুনিদিষ্ট কিছু বিষয়ে পরিস্কার ধারনা থাকলে বা ভাইভা পরীক্ষার কিছু নিয়ম কানুন পূর্ব থেকে জানা থাকলে অতি সহজেই এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করা সম্ভব। এ পরিসরে আমরা ভাইভা পরীক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

আতংক নয়-স্বপ্ন গড়ার সিঁড়ি

ভাইভা পরীক্ষা
ভাইভা পরীক্ষা প্রত্যেক চাকরি প্রার্থীর জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা নিয়োগকর্তার সাথে মাত্র বিশ বা ত্রিশ মিনিটের এই আলোচনার উপর নির্ভর করে একজন চাকরি প্রার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা। অনেক মেধাবী চাকরি প্রার্থীর মনেও ভাইভা আতংক দেখা যায়। অথচ সুনিদিষ্ট কিছু বিষয়ে পরিস্কার ধারনা থাকলে বা ভাইভা পরীক্ষার কিছু নিয়ম কানুন পূর্ব থেকে জানা থাকলে অতি সহজেই এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভ করা সম্ভব। এ পরিসরে আমরা ভাইভা পরীক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

একজন চাকরি প্রার্থীর যা জানা জরুরী

১। একজন প্রার্থীর ভাইভা বোর্ডের সকল প্রশ্ন কর্তার সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না। অবশ্য ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীর নিকট তা প্রত্যাশাও করেন না।ইন্টারভিউ এর আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জেনে নিন এর নানা দিক। অর্থাৎ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের ব্যবসায়ের বা কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। ঐ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য, স্বীকৃতি বা চোখে পড়ার মতো কোন বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে কিনা, তা আগে থেকে জেনে নিন। মনের মধ্যে তা গুছিয়ে রাখুন। এতে কোন ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে সে সম্পর্কে আপনার একটা ধারনাও তৈরি হয়ে যাবে। ফলে আপনি সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

২। ভাইভা বোর্ডে সাধারণত প্রশ্নের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর কোন নিদিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস, উপস্থিত বুদ্ধি ও কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। বোর্ডের সদস্যরা খুবই সহনশীল ও প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক হয়ে থাকে। তাদের উদ্দেশ্য অনেকের মধ্য হতে অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিষ্ঠানের জন্য বেছে নেয়া, প্রার্থীকে অপদস্থ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। অনেক সময় ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীকে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে বিব্রত করে শুধুমাত্র তার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য।

৩। নিয়োগকর্তা যে ভাষায় প্রশ্ন করেন সে ভাষাতেই উত্তর দেয়া উচিত। অর্থাৎ প্রশ্ন ইংরেজীতে করলে উত্তরও ইংরেজীতে হবে। আর বাংলায় প্রশ্ন করলে উত্তরও বাংলায় দেয়া উচিত।

৪। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে স্বীকার করা উত্তম। এতে নিজেকে ছোট মনে করার কিছুই নেই। অনুমানে বা আন্দাজে উত্তর দেয়া একেবারেই অনুচিত। বোর্ডের সামনে ওভার স্মার্টনেস দেখানো উচিত নয়। কারন প্রশ্নকর্তা আপনার তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।

৫। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে কোন ব্যক্তি, দল বা দেশকে সমর্থন না করে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করতে হবে। ( তবে বোর্ডের সদস্যরা বা ঐ প্রতিষ্ঠান কোন মতের কিনা তা নিদিষ্ট থাকলে অবশ্য ভিন্ন কথা।)

৬। সিভি’তে উল্লেখিত বা বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত যে কোন কাগজ (ডকুমেন্টস) যেমনঃ একাডেমিক মার্কসিট, সার্টিফিকেট, অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট, ট্রেনিং বা সাফল্যের যদি কোন সার্টিফিকেট থাকে তা অবশ্যই মূলকপি সহ ভাইভা বোর্ডে সঙ্গে আনতে হবে।

৭ নিজের সম্পর্কে কখনো হীন ধারনা পোষন করবেন না। নেতিবাচক কোন চিন্তাকে মনে স্থান দিতে নেই। আপনার যে যোগ্যতা বা বিশেষত্ত্ব আছে, তা কিন্তু অনেকের মধ্যেই নেই । এটাই জীবনের শেষ ভাইভা, এতে ভালো করতে না পারলে জীবনের সব শেষ, এমন মানসিকতা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন । আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক চাকরি আপনি অবশ্যই পাবেন । এজন্য অযথা নার্ভাস হওয়ার প্রয়োজন নেই । নিজের প্রতি সর্বদা বিশ্বাস রাখুন, সাফল্য আপনার হাতে ধরা দিতে বাধ্য।

ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে আপনার করনীয়

ভাইভা পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়ার আগে প্রার্থীকে কিছু বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। প্রার্থী যদি পূর্ব থেকে নিজেকে প্রস্তুত করে না রাখে তবে ভাইভার দিন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল হতে পারে বা ভুলে যেতে পারেন। যা একজন চাকরি প্রার্থীর জন্য বেদনাদায়ক। ভাইভা পরীক্ষায় যাওয়ার পূর্বে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি সচেতন হওয়া উচিত।

১। পরীক্ষার স্থান বা কেন্দ্র সম্পর্কে আগে থেকেই খোঁজ খবর নেওয়া অর্থাৎ স্থান বা কেন্দ্রটি চিনে আসতে হবে। সম্ভব হলে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারনা নেয়া যেতে পারে।

২। পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার কমপক্ষে আধা ঘন্টা পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। ( রাস্তায় যানজট বা অন্য সমস্যাগুলোকে মাথায় রেখে বাড়ি থেকে বের হতে হবে।)

৩। পান বা সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে পরীক্ষার দিন তা না করাই ভালো।

৪। পরীক্ষার আগের রাতে বেশি রাত জাগা বা জার্নি করা অনুচিত। (আমার এক বন্ধু পেপ্‌সি কোম্পানিতে ভাইভা দিতে এসেছিল রাজশাহী থেকে, রাতে জার্নি করে। সকালে ভাইভা বোর্ডের সামনে ঘুম ঘুম চোখে সে হাজির হয়। পাঠক বাকিটা আপনারা ভেবে দেখুন আমার বন্ধুটির কপালে চাকরি জুটেছিল নাকি তাকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হতে হয়েছিল একবুক অপমান নিয়ে)।

৫। অন্যের নিকট নিজেকে বেশি জাহির করা উচিত নয়। তবে অন্যান্য প্রার্থীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেয়া যেতে পারে। মনকে যতটা সম্ভব নিজের প্রতি মনোযোগী করা উচিত। পরীক্ষা দেরীতে শুরু হলে অস্থির হয়ে হৈ হুল্লোর বাঁধানো ঠিক নয়, এতে পরীক্ষার পূর্বেই আপনি ধৈর্যের পরীক্ষায় হেরে যেতে পারেন।

৬। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পূর্বে আপনার প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি, পোশাক পরিচ্ছদ, মাথার চুল ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করে নিন।

ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার পূর্বে সর্বশেষ প্রস্তুতি

এতদিন পড়াশোনা করে, প্রচুর পরিশ্রম করে ভালো ফলাফল করেছেন। পরীক্ষক আপনাকে মূল্যায়ন করেছেন পরীক্ষার খাতায় আপনার উপস্থাপনা দেখে। মৌখিক পরীক্ষায় যেহেতু আপনাকে পরীক্ষকগনের সামনে স্ব-শরীরে উপস্থিত হতে হবে, তাই নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করুন যেন নিয়োগকর্তা ভাবেন হ্যাঁ, আমিতো এমন কাউকেই খুঁজছি। একজন চাকরি প্রার্থীর দৈহিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় নাও হতে পারে কিন্তু পরিমিত সাজসজ্জা ও মানানসই পোশাক চেহারার ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে পারে সহজেই । আর এ জন্য একজন চাকরি প্রার্থীকে ভাইভা বোর্ডের সামনে যাওয়ার পূর্বে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।

১। নিজেকে পরিস্কার -পরিচ্ছন্ন, রুচিশীল, ব্যক্তিত্ববান হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।

২। মাথার চুল খুব বড় বা ছোট করে কাটা ঠিক নয়। চুল নিজের ইচ্ছে মতো না আচড়িয়ে মার্জিতভাবে পরিপাটি করা উচিত।

৩। যারা দাঁড়ি রাখেন তাদের তা পরিপাটি করে রাখা উচিত। আর যারা গোঁফ রাখেন তাদের গোফ পরিষ্কার করে কেটে রাখা উচিত। যারা দাড়ি রাখেন না তাদের সেভ করা উচিত।

৪। মানানসই পোশাক, যা সুন্দর ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায়। (উজ্জ্বল বা খুব গাঢ় রঙ্গের বা অসংযত জামা কাপড় না পরাই ভাল)। তবে পোশাক অবশ্যই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে।

৫। জুতা অবশ্যই পরিস্কার ও চকচকে হতে হবে। পরীক্ষার্থী যে প্যান্ট পড়বে তা যেন কুচকানো না থাকে। পোশাক ইস্ত্রি করা হওয়াই শ্রেয়।

৬। সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রার্থীকে অবশ্যই অত্যন্ত শালীন ও শোভন ভাবে ভাইভা বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে হবে। ভাইভা বোর্ডের পোশাক প্রসঙ্গে বিশ্বের নামকরা ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট, জব মার্কেট এক্সপার্ট, পোর্টল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডোনাল ডব্লিউ ম্যাকলনটস বলেন -‘ Your own good taste is your best guide’ ।

তিনি আরো বলেন -‘ মনে রাখবেন আপনি একটি চাকরির খোঁজে যাচ্ছেন, কোন পার্টিতে যোগদানের জন্য নয়।’ তিনি মেয়েদের পোশাকের প্রসঙ্গে বলেন- ‘ একজন মেয়েকে সাক্ষাৎকারের সময় অবশ্যই রক্ষনশীল এবং মার্জিত পোশাক পড়া উচিত। তার সাজসজ্জা যেন রুচিশীল ও পোশাকের সাথে মানানসই হয়।’

**************************
জে• আলী
লেকচারার, স্কুল অব বিজনেস্‌
এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ
দৈনিক ইত্তেফাক, ৭ জুন ২০০৮