শেখ আবুল কালাম কোকোনাট ফাইবার কারখানার মালিক কোকোনাট ফাইবার শিল্প স্বল্প পুঁজিতে উদ্যমী বেকার যুবকদের জন্য সম্ভাবনাময়, লাভজনক ও সুবিধাজনক পেশা। এর মাধ্যমে একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিও যেমন সম্মানের সঙ্গে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। তেমনি একজন নিরক্ষর বেকার যুবকও কম মূলধন নিয়ে শুরু করে লাভবান হতে পারেন। দূর করতে পারেন তার বেকারত্বের অভিশাপ। পাশাপাশি দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। কাঁচামালের প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে দেশের যে কোনো প্রান্তে কোকোনাট ফাইবার শিল্প একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি সেক্টরের সহযোগিতা পেলে বেকার যুবকদের যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে তেমনি আমাদের দেশ প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে বলে সংশিস্নষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
পরিকল্পনা ও প্র‘তিঃ শিক্ষিত বা স্বল্প শিক্ষিত যে কোনো বেকার যুবক কোকোনাট ফাইবারের একমাত্র কাঁচামাল নারকেলের অব্যবহ্নত ছোবড়ার সরবরাহের প্রাচুর্যতা সাপেক্ষে এ শিল্প প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিতে পারেন। তবে পরিকল্পনার আগেই তাকে এলাকা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেন কারখানা এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বছরব্যাপী নারকেলের ছোবড়ার সরবরাহ থাকে। কারখানার স্থানটি যেন যোগাযোগ ব্যবস্থার সুব্যবস্থা থাকে। তবে বেশি মূলধনের প্রয়োজন না হওয়ায় মোটামুটি তিন-চার লাখ টাকার মধ্যে এ কারখানা শুরু করা যায়।
কীভাবে শুরু করবেনঃ কোকোনাট ফাইবার কারখানা তৈরির আগেই স্থানীয়ভাবে নারকেলের ছোবড়া সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য নারকেল তেল, মিল এবং নারকেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। যেন কারখানা চালু হওয়ার পর কাঁচামালের সমস্যায় পড়তে না হয়। এরপর নিজের জমিতে হলে ভালো হয়। না হলে ১০ থেকে ১৫ কাঠার একখ- জমি ক্রয় করে সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে উঁচু করতে হবে। কারখানা গড়ে তোলার জন্য প্রথমে দরকার স্থানীয় ইউনিয়ন বা পৌরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া। এরপর কারখানার আকার ও আয়তন অনুযায়ী একটি প্রোফাইল (নিজে বা অন্য দক্ষ-অভিজ্ঞ লোক দ্বারা তৈরি করিয়ে নেয়া যেতে পারে) তৈরি করে তা পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। তা না হলে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন বিষয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন। প্রোফাইল অনুমোদনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে কিছু ফি দিতে হতে পারে। এটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রোফাইল অনুযায়ী কারখানার জন্য দুটি ঘর তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে একটিতে ক্রাসার মেশিন এবং ভাঙানো মেশিন দুটি বসাতে হবে। নারকেলের ছোবড়া ভাঙা বা পেশার জন্য একটি কাটানো (স্থানীয় ভাষায়) মেশিন এবং একটি ক্রাসার মেশিন ক্রয় করতে হবে। এর জন্য আপনার এক থেকে দেড় লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। তবে ইন্ডিয়ান মেশিন কিনলে দাম একটু কম পড়বে এবং প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রপাতির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাওয়া সহজ হবে। এরপর মেশিন চালানোর জন্য দুটি মোটর কিনতে হবে। এটি ক্রাসার মেশিনের আকার অনুযায়ী হতে হবে। একই সঙ্গে কারখানার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে হবে। এছাড়া নারকেলের ছোবড়া ভেজানো এবং সংরক্ষণের জন্য একটি টিউবওয়েল এবং কারখানার মধ্যেই একাধিক পানির রিজার্ভার বা হাউস করতে হবে। কারণ নারকেলের ছোবড়া পানিতে ভিজিয়ে তারপর ভাঙানো মেশিন দিয়ে ভেঙে পরে ক্রাসার মেশিন দিয়ে ফাইবার তৈরি করা হয়। এছাড়া এ কাজে দক্ষতাসম্পন্ন দুজন মিস্ত্রি যারা মূল মেশিন দুটি পরিচালনা করবেন। কারখানায় ফাইবার শুকানো, বান্ডিলকরণ, পানি দেয়া এবং ছোবড়া আনা-নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ দিতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে চাইলে নিজে তদারকি এবং মূল ফাইবার তৈরির কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো হয় এবং খুব কম সময়ে সফলতা পাওয়া যায়। এভাবে যে কেউ কোকোনাট ফাইবার শিল্প শুরু করতে পারেন।
কোকোনাট ফাইবার শিল্পে লাভ-ক্ষতিঃ পেশা হিসেবে কোকোনাট ফাইবার শিল্প প্রতিষ্ঠা একটি লাভজনক পেশা। খুব অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা যায় এ জন্য এতে লোকসানের সম্ভাবনা খুবই কম। এ পেশাতে একটু সতর্কতার সঙ্গে কাঁচামাল কেনা এবং উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সময়ে বাজার যাচাই করে বিক্রি করতে পারলে উন্নয়নের ভালো সম্ভাবনা আছে। একই সঙ্গে নিজেই বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রপ্তানির সুযোগ করতে পারলে বেশি সুুবিধা হয়। প্রাথমিকভাবে এ কাজের জন্য তিন-চার লাখ টাকা মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোকোনাট ফাইবার বিষয়ে কোনো কারখানা থেকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ থাকলে এবং কোকোনাট ফাইবার শিল্পের বহুমুখীকরণ করতে পারলে বেশি সুফল পাওয়া যায়। বাগেরহাটের বিভিন্ন কোকোনাট ফাইবার মিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ শিল্পের লাভ-ক্ষতির বিষয়ে জানা গেছে। কোকোনাট ফাইবার তৈরির জন্য গড়ে পাঁচ হাজার পিস নারকেলের ছোবড়া ক্রয়ের জন্য বর্তমানে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার প্রয়োজন হয়। কোকোনাট ফাইবার শিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নারকেলের ছোবড়ারও দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি হাজার ছোবড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পাঁচ হাজার ছোবড়া থেকে ফাইবার তৈরির জন্য শ্রমিকের মজুরি দিতে হবে এক হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রায় ৩০০ টাকার বিদ্যুৎ খরচ এবং মেশিনের অপচয়সহ সবকিছু মিলে আরো ১০০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হতে পারে। এবং পরিবহন বাবদ আরো ১ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হবে। সব মিলে পাঁচ হাজার ছোবড়া থেকে ফাইবার তৈরির জন্য মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা। অন্যদিকে পাঁচ হাজার ছোবড়ায় ১০ মণ ফাইবার উৎপাদন হবে। বর্তমানে প্রতি মণ ফাইবারের স্থানীয় বাজার মূল্য সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ হাজার ছোবড়ায় লাভ হবে প্রায় এক হাজার টাকা। এই হিসাবে একটি ফাইবার মিলে প্রতি দুই দিনে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার ছোবড়া ভাঙিয়ে ফাইবার উৎপাদন করা যায়। ফলে কোকোনাট ফাইবার মিলের প্রতি দুই দিনে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা লাভবান হওয়া যায়। এক্ষেত্রে কারখানাকে বহুমুখীকরণ করতে পারলে সেটি আরো বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। অর্থাৎ নারকেলের ছোবড়ার ভেতরের খোলা এবং ফাইবার উৎপাদনের পর গুড়োগুলো বস্নক ও মশার কয়েলের কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি প্রসেস করে বিক্রি উপযোগী করতে পারলে সবটুকুই ব্যবসায় পরিণত হয়। তবে উৎপাদিত ফাইবার সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে লাভের পরিমাণ আরো বেড়ে যায়। চীন, বার্মা, ইন্দোনেশিয়াসহ চার-পাঁচটি দেশে এ কোকোনাট ফাইবারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একজন বেকার যুবক অতিদ্রুততার সঙ্গে একটি ফাইবার মিল প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। সর্বোপরি বলা যায়, কোকোনাট ফাইবার শিল্প একটি সম্ভাবনাময় লাভজনক ও শিক্ষিত বা নিরক্ষর সব পর্যায়ের মানুষের উপযোগী একটি পেশা।
কৃষিজীবী থেকে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা
বাগেরহাটের শেখ আবুল কালাম স্বল্প পুঁজিতে নারকেলের ফেলে দেয়া আবর্জনা বা ছোবড়া দিয়ে ‘কোকোনাট ফাইবার কারখানা’ গড়ে তুলে অতি অল্প সময়ে সফলতা পেয়েছেন। মাত্র তিন-চার বছরের ব্যবধানে তিনি এ শিল্পে সফলতা অর্জন করেছেন। একেবারেই কৃষিজীবী পরিবারের স্বল্প শিক্ষিত আবুল কালাম এখন স্বাবলম্বী হিসেবে সমাজের আরো অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার। তাকে অনুসরণ করে কাঁচামালের প্রতুলতার সুযোগ নিয়ে বাগেরহাটে কয়েকটি কোকোনাট ফাইবার শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সফল ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাট অঞ্চলের কোকোনাট ফাইবার শিল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন। কৃষিজীবী পরিবারের অভাব-অনটনের ঘূর্ণায়মান বৃত্ত থেকে নিজেকে যেমন বের করে এনেছেন স্ব-উদ্যোগ ও উন্নয়ন প্রত্যাশীদের কাতারে। তেমনি তিনি নারকেলের ফেলে দেয়া আবর্জনা বা ছোবড়াকে ব্যবহার করে যে শিল্প কারখানা গড়ে তুলে সেটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা যায় তারও নজির সৃষ্টি করেছেন। তিনি এ ধরনের কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিলেও নিজের মধ্যে কোনো জড়তা বা আত্মগৌরব নেই। বরং তিনি তার এ পেশাকে আরো উন্নয়ন এবং বহুমুখীকরণের জন্য সদা সর্বদা চেষ্টা করে চলেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাট কোকোনাট ফাইবার মিলের মাধ্যমে নিজের বেকারত্ব যেমন ঘুচিয়েছেন তেমনি সেখানে আরো ১৫ জন বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই অবহেলিত কোকোনাট ফাইবার বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশে বৈদেশিক মুদ্রাও আসছে। তার এ উন্নতির পেছনে রয়েছে চেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠা।
একান্ত সাক্ষাৎকারে জানা গেছে, বাগেরহাটের সদর উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের সুগন্ধী গ্রামে তার জন্ম। পিতা মোঃ ইসহাক শেখ ছিলেন নিতান্ত একজন কৃষিজীবী। মাতা জোহরা বেগম নিরক্ষর গৃহিণী। কৃষিজীবী পরিবার হলেও পরিবারের চার ভাই ও দুই বোনসহ সবার চাহিদা মেটানোর মতো জমিজমা এমনকি সক্ষমতাও ছিল না। অভাবের সংসারে পিতার কৃষিভিত্তিক কাজ এবং সামান্য জমিতে উৎপাদিত ধান-পাট দিয়ে কোনো রকমে তাদের সংসার চলতো। সংসারের ব্যয়বার বহন করতে গিয়ে দরিদ্র পিতা ভাইবোনদের লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। পরিবারের চাহিদার কারণে ক্রমাম্বয়ে বড় দুই ভাই এবং ছোট ভাইও কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষের দিকে ঝুঁকে পড়লেও একমাত্র আবুল কালাম কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। কিন্তু কি করা যায় সে বিষয়ে কিছুই ভাবনায় আসছিল না। এক পর্যায় শুরু করেন নারকেল ব্যবসা। এরপর আর তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। সেই নারকেল ব্যবসার সময়ে গত ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত কয়েকবার ভারতের কেরালায় যান ব্যবসায়িক কাজে। সেখানে নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ফোম, ম্যাট্রেসসহ বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি হতে দেখেন। পরে নিজের এলাকার নারকেলের ফেলে দেয়া ছোবড়া কাজে লাগিয়ে এ ধরনের কারখানা করার চিন্তা আসে। দেশে ফিরে এসে ঠিক করেন কোকোনাট ফাইবার কারখানা করবেন। যেই চিন্তা সেই কাজ। কিন্তু দরিদ্র পিতার কোনো সামর্থø নেই আর্থিক সহযোগিতা করার। পরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া কিছু জমি বিক্রি করে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের পাশে সিএন্ডবি বাজার এলাকায় ১৩ কাঠা জমি কেনেন। সেই জমি ভরাটসহ কারখানা ঘর তৈরি, ক্রাসার ও কাটানো মেশিন ক্রয়, বিদ্যুৎ সংযোগ, বৈদ্যুতিক মটর ক্রয়, পানির পাম্প ও টিউবওয়েল, পানির হাউস এবং প্রোফাইলসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাজের জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এতে তার প্রচুর লাভও হয় প্রথম বছরেই। এরপর তিনি শুধুই সামনের দিকেই এগিয়েছেন। তাকে অনুসরণ করে বাগেরহাটের যাত্রাপুর, সিঅ্যান্ডবি বাজার, বাঁধাল, রণবিজয়পুর, সাইনবোর্ড, বাগেরহাট শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় কোকোনাট ফাইবার কারখানা গড়ে উঠেছে। এছাড়া স্থানীয় একটি এনজিও হ্যাবিটাট অ্যান্ড ইকোনমি লিফটিং প্রোগ্রাম (হেলপ্) তাদের লার্নিং অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড টু টেস্ট নিউ আইডিয়া অন কোকোনাট প্রজেক্ট (লিফট) নামে একটি প্রকল্পের আওতায় কোকোনাট ফাইবার শিল্প গড়ে তুলেছে।
আবুল কালাম আরো জানান, বাগেরহাট জেলার প্রতিটি পরিবারসহ সর্বত্রই নারকেলের বাগান রয়েছে। এ বাগান থেকে বছরে কয়েক কোটি নারকেল উৎপাদিত হয়ে থাকে। বাগেরহাট ছাড়াও খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, মাগুরা, পিরোজপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, নড়াইল, ঝিনাইদহসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও কিছু কিছু নারকেল উৎপাদিত হয়। যার কিছু অংশ এলাকার মানুষ খাওয়ার জন্য ব্যবহার করে বাকিগুলো নারকেল তেল শিল্প কারখানায় ব্যবহার হয়। নারকেল তেল কারখানায় শুধু নারকেলের ভেতরের মূল শ্বাস বা নারকেলটুকুই ব্যবহার করা হয়। নারকেলের খোসা সাধারণত মানুষ ফেলে দেয় এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। এটিকে কাজে লাগিয়ে তিনি তোশক বা জাজিম বা ম্যাট্রেস তৈরির জন্য ফাইবার কারখানা গড়ে তোলেন। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে চীনে এই কোকোনাট ফাইবার রপ্তানি শুরু হয়েছে। ফলে কোকোনাট ফাইবারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা আবুল কালাম তার এ কোকোনাট ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা করেছেন। যেন নারকেলের ছোবড়া, খোলা এবং ছোবড়ার গুড়ি কোনো কিছুই ফেলা না যায়। তিনি এখন এলাকার মানুষের কাছে সমধিক সমাদরের। এলাকার প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ মূলক কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছেন। তিনি এলাকার কর্তব্যনিষ্ঠ, সৎ ও উন্নয়নকামী স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশী কৃষিভিত্তিক দরিদ্র পরিবারসহ সবার কাছে অনুসরণীয়।
আরো জানান, লেখাপড়া না শিখেও উদ্যম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে নিজের উন্নতি এবং দেশের সেবা করার ইচ্ছা থাকলে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারে। বিশেষ করে স্বল্প পুঁজিতে বেকার যুবকদের জন্য কোকোনাট ফাইবার শিল্প প্রতিষ্ঠা একটি উত্তম পেশা হতে পারে। এক্ষেত্রে নিজেকে কঠোর পরিশ্রমী করে তৈরি করতে হবে।
**************************
সুনীল দাস
যায়যায়দিন, ৪ জুন, ২০০৮