- Home
- অভিজ্ঞতা ও সাক্ষাতকার
- পাদুকা প্রকৌশলীর একদিন
পাদুকা প্রকৌশলীর একদিন
- By Career Poster
- Published 05/25/2008
- অভিজ্ঞতা ও সাক্ষাতকার
- Unrated
শুধু ধুলাবালি থেকে বাঁচাতে নয়, পা-কে আকর্ষণীয়ও করে তোলে সুন্দর এক জোড়া জুতা বা স্যান্ডেল। জুতা তৈরির কাজটাই করেন একজন পাদুকা প্রকৌশলী (ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার)। হেলেনা এন্টারপ্রাইজের ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার শিব অভ্র চ্যাটার্জি জয় জানিয়েছেন তাঁর পুরো একটি কর্মময় দিনের কথা।
অফিসে যাওয়ার জন্য সকাল সাতটার মধ্যে নিজেকে তৈরি করে নিই। এরপর অফিসে পৌঁছে পৌনে নয়টার মধ্যে পুরো কারখানা একবার ঘুরে দেখে আসতে হয় সব কর্মচারী সময়মতো এসেছে কি না, যন্ত্রপাতি সব ঠিক আছে কি না, কেউ গল্পগুজব করছে কি না, প্রশিক্ষণের ছেলেমেয়েরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কি না, কারখানার নোংরা, ঝুল, উপাদানের কাটাকাটি নানা অপ্রয়োজনীয় অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে কি না প্রভৃতি। পরে প্রতিবেদন তৈরি করতে হয়।
অফিসের কাজ শুরু
প্রতি সপ্তাহেই জুতার জন্য নতুন নতুন ডিজাইন তৈরি করতে হয়। সকালবেলায়ই জুতার নানা ধরনের ডিজাইন নিয়ে ভাবি। নিত্যনতুন ডিজাইন করার চেষ্টা করি। এরপর সে অনুযায়ী প্যাটার্ন তৈরি করি। ইনসোলের কভারিং করি। সোল ডিজাইনের কাজটাও করতে হয়। এরপর পর্যবেক্ষণ করতে কারখানায় যেতে হয়। যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালনা করা হচ্ছে কি না এবং ফিনিশিংয়ের কাজটাও আমাকে দেখতে হয়। জুতা তৈরির বিভিন্ন কাজ বা ধাপকে একটা খাতায় তুলে ফেলতে হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো নতুন ধরনের জুতা বা স্যান্ডেল তৈরি করতে গেলে শ্রমিকদের এক জোড়া নতুন জুতা নিজের হাতে তৈরি করে দিতে হয়।
এ ছাড়া কর্মচারীদের সুবিধা-অসুবিধা, সেই সঙ্গে কারখানার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলতে হয় প্রায় প্রতিদিনই। আগে তো আমাদের প্রতিষ্ঠান দেশের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করত। বর্তমানে এটি একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। এ কারণেই দেশে ও দেশের বাইরের ক্রেতাদের সঙ্গেও আমাকে বসতে হয়। ক্রেতাদের চাহিদাগুলো জেনে নিই এবং সঙ্গে সঙ্গে এও ভাবি, আমি তাদের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পারব। পণ্য দেওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট দিনে তাদের পণ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করি। আর সবচেয়ে বড় কথা, দেশে-বিদেশে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি। এতে তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের নানা ধরনের কাজ দেয়।
জুতা বা স্যান্ডেল যা-ই তৈরি করা হোক না কেন, ফিনিশিংয়ের কাজটা অনেক বড় ব্যাপার। এই কাজগুলো আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করি। এর মধ্যে ক্লিনিং, রিপেয়ারিং, টপ ড্রেসিং প্রভৃতি কাজে নিজের তদারকি থাকে এবং প্রতিদিনই কাজ শেষে একটা ছোট প্রতিবেদন তৈরি করি, ওই দিন কী কী কাজ করা হয়েছে। এও ভেবে দেখি, আমার প্রতিষ্ঠানে পণ্য তৈরির লক্ষ্যমাত্রা কী আর সেটি পূরণে কত দ্রুত কাজ করতে হবে।
**************************
গ্রন্থনাঃ নাজমুল হাসান
প্রথম আলো, ২৪ মে ২০০৮